যে সকল চুক্তি সুনির্দিষ্ট ভাবে কার্যকর করা যায় না। Part-07

0
195
যে সকল চুক্তি সুনির্দিষ্ট ভাবে কার্যকর করা যায় না। Part-07

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন-১৮৭৭ / Specific Relief Act-1877। Part-07

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা বিভিন্ন ধরনের চুক্তি করে থাকি। এদের মধ্যে কিছু চুক্তি সুনির্দিষ্ট ভাবে কার্যকর করা সম্ভব হলেও অনেক চুক্তিই সুনির্দিষ্ট ভাবে কার্যকর করা সম্ভব হয় না। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭ এর ২১ অনুসারে কোন কোন চুক্তি সুনির্দিষ্ট ভাবে কার্যকর করা যাবে না তা সুস্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে।

ক। যে ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্ট ভাবে চুক্তি কার্যকর করা না হলে, যে ক্ষতি হবে তা অর্থ দ্বারা পরিশোধ করা সম্ভব।

উদাহরণঃ

ক’ ‘খ’ এর নিকট থেকে ১০০০টাকা ধরে ৫০ টি ব্যাগ কেনার জন্য চুক্তি করে। ক চুক্তিটি সুনির্দিষ্ট ভাবে সম্পাদন করার জন্য আদালতে মামলা দায়ের করে। কিন্তু আদালত যদি মনে করে, চুক্তিটী সুনির্দিষ্ট ভাবে পালন করা যুক্তিসঙ্গত নয়। সেক্ষেত্রে আদালত চুক্তি সুনির্দিষ্ট ভাবে পালন না করে ক্ষতিপূরণের  আদেশ প্রদানের মাধ্যমে প্রতিকার প্রদান করতে পারে।

খ।

১। যদি চুক্তির বিষয় বস্তুটি জটিল হয় এবং অনেক ছোট ছোট বিষয় নিয়ে গঠিত হয়। ২। যদি চুক্তিটি ব্যক্তিগত যোগত্য বা দক্ষতার উপর নির্ভর করে। ৩। চুক্তির ধরন এমন যে , যার লঙ্গন হলে প্রতিটি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তত্বাবধান করা সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে আদালত চুক্তিটি সনির্দিষ্ট ভাবে কার্যকর করার নির্দেশ নাও দিতে পারে।

উদাহরণঃ 

‘ক’ ‘খ’ এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হয় যে , সে ‘খ’ এর  নিকট থেকে একটি বাড়ি নির্দিষ্ট শর্তে, নির্দিষ্ট ভাড়ার বিনিময়ে, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভাড়া নিবে। তবে বাড়িটি অবশ্যয় সুন্দর ভাবে সুসজ্জিত হতে হবে।

এক্ষেত্রে চুক্তিতে অনেক গুলো ছোট ছোট বিষয় জড়িত। তাই এই ক্ষেত্রে আদালত চুক্তিটি সুনির্দিষ্ট ভাবে সম্পাদন করার নির্দেশ নাও দিতে পারে। তবে আদালত উপযুক্ত মনে করলে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারে।

গ। যে ক্ষেত্রে চুক্তির শর্ত গুলো যথাযথ ভাবে বলা না থাকে।

উদাহরণঃ

‘ক’ খ’ এর নিকট থেকে এক একর জমি ক্রয় করার জন্য চুক্তি করে। কিন্তু কত টাকার বিনিময়ে, কি শর্তে বা কোন জমি তা কিছুই  বলা থাকে না। সেই ক্ষেত্রে আদালতে মাধ্যমে চুক্তিটি সুনির্দিষ্ট ভাবে কার্যকর করা যাবে না।

ঘ। যে চুক্তিগুলো তাদের প্রকৃতি অনুসারে বাতিলযোগ্য।

উদাহরণঃ

যদি অবৈধ অস্ত্র কেনার জন্য চুক্তি করা হয়। তাহলে তা বাতিল যোগ্য এবং আদালতের মাধ্যমে তা সুনির্দিষ্ট ভাবে কার্যকর করা যাবে না।

ঙ। কোন Trustee যদি Trust এর শর্ত ভঙ্গ করে বা তার ক্ষমতার বাহিরে গিয়ে কোন ধরনের চুক্তি করে তাহলে আদালতের মাধ্যমে তা সুনির্দিষ্ট ভাবে সম্পাদন করা যাবে না।

উদাহরণঃ

‘ক’ একজন Trustee, তাকে একটি নির্দিষ্ট জমি দেখা শুনার করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে কিন্তু সে উক্ত জমিটী ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করেছে । এই ক্ষেত্রে ‘ক’ ব্যাংকের সাথে যে চুক্তিটি করেছে তা আদালত কর্তৃক সম্পাদন যোগ্য নয়। কারন ক তা ক্ষমতার বাহিরে গিয়ে চুক্তি করেছে।

চ। বিশেষ উদ্দেশ্য গঠিত কোন কর্পোরেশন বা কোন পাবলিক কোম্পানির পক্ষে তাদের উদ্দ্যোক্তাগন যদি তাদের ক্ষমতার বাহিরে গিয়ে বা কোম্পানির উদ্দেশ্যর বাহিরে গিয়ে কোন চুক্তি করে তাহলে তা আদালত  কর্তৃক বলবৎ যোগ্য হবে না।

উদাহরণঃ

রাস্তার বা ব্রীজ নির্মানের জন্য গঠিত কোন বিশেষ কোম্পানি যদি, খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন করার উদ্দেশ্য কোন যন্ত্রপাতি কেনার জন্য চুক্তি করে । তাহলে তা আদালত কর্তৃক ম্পাদন যোগ্য হবে না।

ছ। যে চুক্তি সুনির্দিষ্ট ভাবে সম্পাদন করতে গেতে কাজ শুরুর তারিখ হতে তিন বছরের বেশী সময় লাগবে।

জ। যে চুক্তির বিষয়বস্তু চুক্তি করার সময় বলবৎ আছে বলে মনেকরা হলেও বাস্তবে চুক্তি করার পূবেই তার অস্তিতের বিলোপ সাধন হয়েছে।

উদাহরণঃ

‘ক’ তার ঘোড়া ‘খ’ এর নিকট তার ঘোড়া টি ৫০,০০০ টাকায় বিক্রি করার জন্য চুক্তি করে । কিন্তু বাড়ি ফিরে দেখা যায় চুক্তি করার পূবেই মারা গেছে। সেক্ষেত্রে চুক্তি টি আদালত কর্তৃক সুনির্দিষ্ট ভাবে বলবৎ যোগ্য নয়।

অনেক চুক্তি আদালত কর্তৃক বলবৎ করা সম্ভব হলেও সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১ ধারা অনুসারে নির্ধারিত চুক্তি আদলাত কর্তৃক সুনির্দিষ্ট ভাবে বলবৎ যোগ্য নয়।

বিক্রয়ের জন্য অলিখিত চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎযোগ্য নয়। 

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১(ক) ধারাতে বলা হয়েছে,

এই আইনে বা বাংলাদেশে বলবৎযোগ্য অন্য কোন আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের জন্য সম্পাদিত সুনির্দিষ্ট ভাবে বলবৎযোগ্য হবে না, যদি না;

১। চুক্তিটি যদি নিবন্ধন আইন অনুসারে  লিখিত ও নিবন্ধিত  না হয়।

২। চুক্তি কার্যকর করার সময় যদি আদালতে অপরিশোধিত টাকা জমা না দেয়। তাহলে উক্ত চুক্তি আদালত কর্তৃক সুনির্দিষ্টভাবে বলবৎ করা যাবে না

 

Facebook Comments